বাচ্য হচ্ছে বাংলা ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়। ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে। যেমন: সে বাজারে যায়। সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়ছে। কোথায় যাওয়া হচ্ছে।
বাচ্যের প্রকারভেদঃ
বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
১. কর্তৃবাচ্য
২. কর্মবাচ্য
৩. ভাববাচ্য।
- এছাড়াও কর্মকর্তৃবাচ্য নামে আরও এক প্রকার বাচ্য আছে।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ব্যাকরণে 'কর্তা' হলো বাক্যের সেই বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ, যা স্বাধীনভাবে ক্রিয়া সম্পাদন করে বা কাজ সম্পন্ন করায়। ক্রিয়াপদকে "কে" বা "কারা" দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তা বা কর্তৃকারক । এটি মূলত বাক্যের প্রধান ব্যক্তি, প্রভু, বা মালিককে নির্দেশ করে ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ব্যাকরণে, কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা যার ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়ার কাজ সম্পাদন করে, তাকেই কর্ম বা কর্মকারক বলে ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য বিদ্যমান থাকে এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
যেমন: আমি ভাত খেয়েছি।
রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি লিখেছেন।
ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
ঝরনা ছবি আঁকে।
আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
কর্তৃবাচ্যের বৈশিষ্ট্য:
ক. এ বাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়ে থাকে।
খ. এ বাচ্যে ক্রিয়া সকর্মক ও অকর্মক দুই-ই হতে পারে।
গ. এ বাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন: শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
রোগী পথ্য সেবন করে।
ঘ. অজীব বিশেষ্যও অনেক সময় কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন: ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
শরতে শিউলি ফোটে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কর্মবাচ্য: যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে। যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে। যেমন:
আমার ভাত খাওয়া হয়েছে।
শিকারী কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক গীতাঞ্জলি লিখিত হয়েছে।
পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
চিঠিটা পড়া হয়েছে।
কর্মবাচ্যের বৈশিষ্ট্য:
ক. এ বাচ্য কেবল সকর্মক ক্রিয়া হইতে গঠিত হয়।
খ. এ বাচ্যে ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
গ. এ বাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। যেমন: আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়। চোরটা ধরা পড়েছে।
ঘ. কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে। যেমন: আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভাববাচ্য: যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে। যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। যেমন: সেঁজুতির ঘুমানো হলো না। আমার খাওয়া হল না। আমার যাওয়া হলো না। কোথা থেকে আসা হলো।
ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্য:
ক. এ বাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়।
খ. এ বাচ্য কেবল অকর্মক ক্রিয়া হইতে গঠিত হয়।
গ. এ বাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন: আমাকে এখন যেতে হবে। তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না।
ঘ. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। যেমন: এ পথে চলা যায় না। এ বার ট্রেনে ওঠা যাক। কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
ঙ. মূল ক্রিয়ার সাথে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাব বাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন: এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কর্মকর্তৃবাচ্য: যে বাচ্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে। যেমন: বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে। তোমাকে রোগা দেখায়। কাজটা ভালো দেখায় না। সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
বাচ্য পরিবর্তনঃ
বাচ্য পরিবর্তনে ক্রিয়ার ভাব পরিবর্তিত হয়, কিন্তু ক্রিয়ার কাল পরিবর্তিত হয় না এবং বাচ্য পরিবর্তনে বাক্যের (সরল, যৌগিক জটিল) প্রকারের পরিবর্তন হয় না।
কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তন
কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তন:
- বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
- কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া সকর্মক হলে সে বাক্যকে কর্মবাচ্যের বাক্যে পরিবর্তন করা যাবে।
- কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কর্তা ও কর্মের পরিবর্তন ঘটে।
- কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয়।
- কর্মের প্রাধান্য থাকায় ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
কর্তৃবাচ্য | কর্মবাচ্য |
| আমি বই পড়েছি। | আমার বই পড়া হয়েছে। |
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'গীতাঞ্জলি' চেনা করিয়াছেন। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক 'গীতাঞ্জলি' রচিত হইয়াছে |
| বিদ্বানকে সকলেই আদর করে। | বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন। |
| খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। | বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে। |
| মুবারক পুস্তক পাঠ করছে। | মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে। |
| জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন। | জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে। |
| তারা বাড়িটি তৈরি করেছে। | তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে। |
কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তন:
- বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
- দিয়া, দ্বারা, কর্তৃক প্রভৃতি লুপ্ত হয়ে তা শূন্য বিভক্তিযুক্ত হবে।
- ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হবে।
কর্মবাচ্য | কর্তৃবাচ্য |
| নজরুল কর্তৃক 'অগ্নিবীণা' লিখিত হয়েছে। | নজরুল 'অগ্নিবীণা' লিখেছেন |
| তোমা হতে আমার শান্তি আসলো না। | তুমি আমাকে শাস্তি দিলে না। |
| আমা দ্বারা ফুল তোলা হয়েছে। | আমি ফুল তুলিয়াছি। |
| হালাকু খাঁ কর্তৃক বাগদাদ বিধ্বস্ত হয়। | হালাকু বাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। |
| প্রধান শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে। | প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। |
| আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। | আমরা কঠোর পরিশ্রম করি। |
কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে পরিবর্তন:
ক. বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
খ. ক্রিয়ার প্রাধান্য থাকবে।
গ. কর্তৃবাচ্যের কর্তার সাথে 'র' আ 'এর'; ক্ষেত্রবিশেষে 'কে' বা 'দের' বিভক্তি যুক্ত হয়।
কর্তৃবাচ্য | ভাববাচ্য |
| আমি আর গেলাম না। | আমার আর যাওয়া হলো না। |
| তোমরা কখন এলে? | তোমাদের কখন আসা হলো? |
| এবার তাহলে আসি। | এবার তাহলে আসা যাক। |
| আমি যাব না। | আমার যাওয়া হবে না। |
| তুমিই ঢাকা যাবে। | তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে। |
| তুমি কখন এলে? | কখন আসা হলো? |
| ওখানে কেন গেলে? | ওখানে কেন যাওয়া হলো? |
ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তন:
ক . বাচ্যের অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
খ. ও, এর, কে প্রভৃতিযুক্ত পদের বিভক্তি লোপ পেয়ে কর্তৃপদে পরিণত হবে।
গ. কর্তৃপদের অনুসারী ক্রিয়া ব্যবহৃত হবে।
ভাববাচ্য | কর্তৃবাচ্য |
| তোমাকে হাঁটতে হবে। | তুমি হাঁটবে। |
| কোথায় থাকা হয়। | কোথায় থাক। |
| একটি গান করা হউক। | একটি গান কর। |
| এবার একটি গান করা হোক। | এবার (তুমি) একটি গান কর। |
| তার যেন আসা হয়। | সে যেন আসে। |
| একটু বাহরে বেড়িয়ে আসা যাক। | একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। |
| এবার বাঁশিটি বাজানো হোক। | এবার বাঁশিটি বাজাও। |